latest

কোটা বাতিল প্রসঙ্গে

লীনা পারভিনের অভিমত

কোটা বাতিলের পর যারা বিজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন তারা আগে কোথায় ছিলেন? অবুঝ ছেলেপেলে যখন আবেগের চোটে বলে আসছিলো নারী কোটা চাইনা তখন কেন আপনারা বক্তব্য দেন নি যে নারী কোটা বাতিলের সময় এখনও আসেনি। আদিবাসী কোটা নিয়েও বলছেন এই কোটা বাতিল খুব খারাপ দৃষ্টান্ত হবে। লক্ষ্যণীয় হচ্ছে, সবাই সব কোটা রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটা নেই সেই তালিকায়। পরিষ্কার হয়ে যায় যে তারা আসলে এই একটি কোটাকেই টার্গেট করে আন্দোলনে নেমেছিলো। হয়তো চক্ষুলজ্জার ভয়ে মুখ ফুটে বলতে পারেনি।

আজকে আয়েশা খানম বা অন্যরা যারা বলছেন কোটা বাতিল খারাপ সিদ্ধান্ত, তাদের কী সামাজিক বা রাজনৈতিক দায়িত্ব ছিলো না কোটা বিরোধী আন্দোলনের ছেলেমেয়েগুলোকে বুঝানো। যেসব শিক্ষক তাদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন, এককথায় উস্কে দিয়েছিলেন সরকারের সিদ্ধান্তকে না মেনে আন্দোলন চালিয়ে যাবার তাদের দায়িত্ব কী ছিলো? জাফর ইকবারল স্যারের আন্দোলনের সাথে ছিলেন, কী মেসেজ দিয়েছিলেন সেদিন ওদেরকে? ওদের গরম মাথাকে ঠান্ডা করার জন্য কোন ভূমিকা কি ছিলো কারও? কেবল সংহতি জানালেই দায়িত্ব পালন হয় না। ছাত্ররা যদি কোন ভুল বার্তাকে সামনে নিয়ে রাষ্ট্রের মুখোমুখি হয় তখন অভিভাবকহীন সেসব ছাত্রদেরকে গাইড করার দায়িত্ব হয় শিক্ষকদের বা দায়িত্ববান অভিভাবকদের। রাস্তায় নামলেই আন্দোলন হয়ে যায় না। লক্ষ লোক একসাথে নামলেই সেটা ফলপ্রসূ বা বৈপ্লবিক কিছু হয়ে যায় না। প্রতিটা আন্দোলনের যৌক্তিকতাকে সরল ও সাধারণের বোধগম্য করে গ্রহণযোগ্যতা আদায় করে নিতে হয়। রাষ্ট্র তখনি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় যখন সেটা যৌক্তিক ভিত্তির উপর দাঁড়ায় এবং যখন সেটা বেশীরভাগের দাবি হয়ে উঠে। আপনাদের আন্দোলন প্রথম থেকেই পরিষ্কার ছিলো না। কী চান, কেন চান এবং কেমন করে সে দাবি আদায় হবে সে বিষয়টি ছকে আঁকা ছিলো না। একজন সরকার প্রধান যখন দায়িত্ব নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন তখন সে সরকার যতই ঘৃন্য হোক, তার কথায় বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোন রাস্তা থাকেনা কারণ রাষ্ট্রের যা আছে আপনার সেটা নাই।

আরেকটা কথা, আমাদের যেসব রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়ার মত ক্ষমতা হারিয়ে এখন প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মবের আশায় বসে থাকেন চাতকের মত তাদের যদি এখনও হুশ না আসে তাহলে বলবো আপনারা গলায় দড়ি দেন। এতবছরের রাজনীতির ইতিহাসকে আপনারা কেবল নষ্টই করছেন না, দেশটাকেও ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছেন। আন্দোলনের দায়িত্ব নেয়ার আগেই তার ফলাফল জেনে রাখাটাই হচ্ছে প্রধান কৌশল। রাজনীতি আর আবেগ এক নয়। আপনাদের আন্দোলনের শুরুটা ছিলো আবেগের এবং এই আবেগ কাজে লাগাতে চেয়েছিলো স্বার্থবাদিরা। শেখ মুজিবের বিরোধিতা করতে গিয়ে যেমন বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতেও অনেকের বাধেনি ঠিক তেমনি হাসিনাকে বিরোধিতা করতে গিয়ে আবারো বাংলাদেশকে জুয়ার টেবিলে তুলে দিচ্ছে আমাদের কতিপয় রাজনৈতিক শক্তি।

"বাংলাদেশ" যাদের রাজনীতির হাতিয়ার তারা কখনই সফল হবেনা। আর যারা "বাংলাদেশের" জন্য রাজনীতি করে সফলতা তাদের জন্যই অপেক্ষায় আছে। কোটা সংস্কার বা বাতিল আন্দোলন হেরেছে সেই "বাংলাদেশের" জন্য রাজনীতির কাছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ'কে নিয়ে রাজনীতি করতে যাবার আগে তিনবার ভেবে নিবেন বলে আশা করছি। বাংলাদেশ কারো রাজনীতির গুটি না।

জয় বাংলা। প্রশাসন থেকে দেশবিরোধীদের বাতিল করা হোক। দেশদ্রোহী রাজাকারদের সম্পত্তি ও চাকরি করার অধিকার বাতিল করা হোক।