latest

রক্তাক্ত গুলশান: হামলায় জড়িত ‘দুই জঙ্গি লুকিয়ে ভারতে’

কেটে গেল দু বছর৷ কালচক্রের নিয়মেই রক্তাক্ত দিনটি ফিরে এসেছে৷ আসবেও বারে বারে৷ জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত বাংলাদেশ ক্রমে তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে৷ একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি, ডেরা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত৷ জঙ্গি দমন অভিযানে খতম হয়েছে গুলশনের ঘাতকরা৷ ধরা পড়েছে অনেকেই৷ কিন্তু অধরা এখনো দুই বাংলাদেশি জঙ্গি৷ হামলা পরবর্তী তদন্তে উঠে এসেছে তারা পালিয়ে ভারতেই লুকিয়ে৷

প্রথম জন মামুনুর রশিদ রিপন ও দ্বিতীয় জন শরীফুল ইসলাম খালিদ৷ এই দুই নব্য জেএমবি জঙ্গিকে পলাতক দেখিয়েই কয়েকদিনের মধ্য পেশ করা হবে গুলশন হামলার চার্জশিট৷ বাংলাদেশের জঙ্গি দমন বাহিনী কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সেই হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেছে৷ চার্জশিটে থাকছে হামলার দিন অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধের পর থেকে নাশকতা পরবর্তী সময়ে তদন্তের বিবরণ ও নিহত, ধৃত জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য প্রমানাদি৷

(১) ‘বাংলার বাঘ’ ঘনিষ্ঠ রিপন গুলশন হামলার পরিকল্পনা ও জঙ্গি সরবরাহকারী হিসেবে অন্যতম নাম মামুনুর রশিদ রিপনের। জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি) সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছিল রিপন। পরে জেএমবি ভেঙে নব্য জেএমবি তৈরি হলে রিপন সেই সংগঠনে নাম লেখায়৷ কানাডা থেকে আসা বাংলাদেশি জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী ওরফে ‘বাংলার বাঘ’ ঘনিষ্ঠ রিপনের বাড়ি বগুড়ায়৷ সে মূলত বাংলাদেশের উত্তারঞ্চলে সংগঠনের দায়িত্ব নিয়েছিল৷ গুলশন হামলার পর থেকেই নিখোঁজ এই জঙ্গি৷ বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্তাদের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে রিপন৷ পশ্চিমবঙ্গ বা অসমের কোথাও তাঁর গোপন আস্তানা রয়েছে৷

(২) শরিফুল ইসলাম খালিদ গুনশন হামলার আরও এক মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হল রিপন৷ সেও হামলার পর থেকে নিখোঁজ৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, রিপন ও খালিদ একসঙ্গেই লুকিয়ে ভারতে৷ হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলার পরিকল্পনায় পুরোপুরি জড়িত খালিদ৷ সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র৷ পড়ত ইংরাজি নিয়ে৷

ইদের আগে রমজানের মাসে হামলা করা হয়েছিল ঢাকার হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে৷ ভয়াবহ সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইদের দিন ফের হামলা চালানো হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার বিখ্যাত নমাজ পাঠের সময়৷ রক্তাক্ত হয় ইদ৷ ফের কেঁপে গিয়েছিল বাংলাদেশ৷ নব্য জেমবির আত্মগোপনকারী নেতৃত্ব ফের গুলশন হামলার মতো পরিকল্পনা করেছে সেটা জানতে পারেন গোয়েন্দারা৷ পরে জঙ্গি দমন অভিযানে খতম হয়েছে বাংলার বাঘ তামিম চৌধুরী সহ আরও শীর্ষ জঙ্গি নেতা৷

এদিকে নব্য জেএমবির একাধিক নেতৃত্ব খতম বা ধরা পড়ার পরেও তাদের পুরনো শাখা অর্থাৎ জেএমবির প্রধান সালাউদ্দিন সালেহীন এখনো অধরা৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, আই সালাউদ্দিন পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে৷ তার নেতৃত্বে নতুন করে জেএমবি তাদের নাশকতা ছড়াতে তৈরি হচ্ছে৷ একাধিক নাশকতার মামলায় সালাউদ্দিনের যোগসূত্র মিলেছে৷ সিটিটিসি-র দাবি, পুরনো জেএমবিকে শক্তিশালী করতে হাল ধরেছে সালাউদ্দিন সালেহীন৷

প্রশ্ন থাকছে, গুলশন হামলার দুই অধরা জঙ্গি রিপন ও খালিদ কি সালাউদ্দিনের সঙ্গে ফের ভিড়বে৷ কারণ নাশকতা ছড়াতে জেএমবির পলাতক প্রধান ‘আমির’ সালাউদ্দিন সালেহীনের মতো নেতৃত্ব তাদের প্রয়োজন৷ সেই সূত্রে পুরনো ছেড়ে আসা সংগঠন জেএমবি-তে গিয়েই ঢুকতে পারে রিপন৷ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেতে পারে খালিদও৷